25th Anniversary and Literary Seminar

The Shanghai Literary Society is organizing a special 25th anniversary and literary seminar on 1st August 2015 at Curtain Theatre, 28 Commercial Street, London E1 6LS, United Kingdom. Since the organization's inception in 1989 the society has been organizing regular arts and cultural events, including an annual poetry festival, which attracts more than 1000 participants and poets from around the world, including special guests invited from Bangladesh, West Bengal, USA, Canada and Europe.

Poet, Novelist and Journalist Anisul Hoque

It has been confirmed by our distinguished guests and delegates of their attendance including renowned poet, writer, novelist and journalist Anisul Hoque (Associate Editor, Day Prothom Alo), poet and Journalist Mustafiz Shafi (Executive Editor, Daily Samakal), poet, writer and academician Shoaib Gibran, writer, lyricist & composer  Sheik Rana from Bangladesh and  poet and writer Abdul Hasib from Canada, it is also confirmed that popular singer and musician Badsha Bulbul (Bangladesh) and musician and santoor player Kunal Saha from Kolkata also featuring the event.

Poet and Journalist Mustafiz Shafi

It just seems that Shanghati keeps growing and glowing with a remarkable vitality that demonstrates the creativity, respect, and understanding that the Shanghati has for the Bengali literature, arts and cultural field. It has broadly recognized that the Shanghati board and every member for their diligence, commitment, vision and support they have provided to Bengali literature throughout the world.

Poet & Writer Soaib Gibran

The 25th year anniversary and literary festival will be an even more special in the light of the recent expansion of its activities in running an externally funded project.  The event will have colorful procession, seminar, poetry recitation, music and drama performances. It will be attended by the diverse communities of the UK and other parts of globe.

Poet and Writer Abdul Hasib

We have been promised to expand our creativity and our rich culture and literature in the multicultural society around the globe, and now the time, we are faced with the challenges of realizing that promise, work that requires us all to continue speaking out and acting on our commitments to make substantive and lasting changes.

photoWriter,Lyricist & Musician Sheik Rana
badsha-bulbul.j1Singer and Musician Badshah Bulbul
Musician and Santoor Player Kunal Saha

The strength and success of the work that Shangahti and our members has been doing for the last 25 years gives us the ability and courage to continue doing that work into the future, and look forward to work together.

সংহতি রজত জয়ন্তী ২০১৫

সংহতি আজ ২৫ বছরের যুবা। আজ থেকে ২৫ বছর আগে তৃতীয়বাংলায় কিছু তরুণ কবি ও সাহিত্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় সংহতি সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে সংহতি তার আদর্শ এবং কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে একটি নিরেট সাহিত্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের সব ক'টি ক্ষেত্রেই সংহতি সমান অবদান রেখে আসছে। সংহতি শুরুতে যুক্তরাজ্য থেকে সর্বপ্রথম বাংলা মাসিক সাহিত্যের কাগজ প্রকাশনার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে। তারপর ধাপে ধাপে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোজন করছে ভিন্ন মাত্রা। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম বাংলা কবিতা উৎসব ও বহির্বিশ্বের বাংলাভাষার কবি সাহিত্যিকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে সাহিত্য পুরষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংহতি কবিতা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করছেন কবি ও সাহিত্যিকরা। সংহতির ২৫ বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পহেলা আগস্ট ২০১৫, পূর্বলন্ডনের কার্টেন থিয়েটারে উদযাপিত হতে যাচ্ছে রজত জয়ন্তী ও সাহিত্য সম্মেলন। এতে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকার চুড়ান্ত  সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এ সময়ের জনপ্রিয় কবি, লেখক ও কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, কবি ও সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি, কবি ও সাহিত্যিক ড. শোয়াইব জিবরান, লেখক, গীতিকার ও সুরকার শেখ রানা, বিশিষ্ঠ সংগীত শিল্পী বাদশা বুলবুল, ক্যানাডা থেকে কবি আব্দুল হাসিব, ও কলকাতা থেকে আসছেন সানতুর শিল্পী কুনাল সাহা্। তাছাড়ও  যুক্তরাজ্য ও  ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক কবি সাহিত্যিকরা অংশগ্রহণ করবেন। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন shanghati@yahoo.co.uk


Exploring poetry writing and community evolution in East London during 1960-80
A unique project by Shanghati Literary Society

 The project aims to help reveal the rich heritage of poetry in East London during 1960-80, primarily by Bengalis, through oral history and collecting community poems. This period represents a decade before and a decade after the creation of Bangladesh in 1971, which is partly designed to help understand the impacts of the tumultuous birth of a new country on community poetry.  The project will include poetry by non-Bengalis of the area, which will help bring out the totality of the world of poetry writing in East London, the changing local context and the place of Bengali poetry writing. Now a group of volunteer researchers from East London are setting out to uncover that story, backed by a £50,000 grant from the Heritage Lottery Fund (HLF).

Poetry writing and reading have been a very strong element of Bengali life for a long time. Not only professional or well-known poets participated in this art but many ordinary people in their spare time or during moments of inspiration wrote down verses on blank sheets of paper. Migrants who came to the UK from Bangladesh or Bengal part of East Pakistan before Bangladesh was created in 1971 resorted to writing and reading poetry in order to seek comfort, express and share thoughts and experiences, engage in cultural activities, explore romantic feelings, etc.

Many ordinary people sent their poems to Bengali newspapers and magazines to be published and some even spend money from their pockets to get their own books of short poetry printed, which they tried to sell through small shops, during community events or just give them out free of charge. There are literally hundreds of poets who produced works of different qualities and some of their works are probably in family archives somewhere in their homes and others may be found by going through old Bengali newspapers and community magazines and newsletters.

There is also a strong tradition of poetry within the mainstream communities of East London during the same period. For example, the Basement Writers Group spearheaded poetry activities in the area with regular performances and many publications.

From the 1960s onwards East London experienced major changes, caused by post war immigration, experiences of and fight against racism, decline of local industries, closure of docks and resistance by local people, rising unemployment, etc. The inclusion of poetry by non-Bengalis in the project will help develop an understanding of the shared and different worlds lived and experienced by the diverse communities of East London.

The project will recruit twelve volunteers and provide them with training on oral history, curatorial presentations and archival research. The volunteers will record oral history of forty community poets, collect 100 Bengali and English poems, and help produce a printed book and an illustrated exhibition, which will be showcased at the project end celebration at the Bancroft Local History Library and Archives.

Notes to Editors

 About the Heritage Lottery Fund

From the archaeology under our feet to the historic parks and buildings we love, from precious memories and collections to rare wildlife, we use National Lottery players' money to help people across the UK explore, enjoy and protect the heritage they care about. www.hlf.org.uk.

About the Shanghati Literary Society

Shanghati Literary Society organises regular arts and cultural events, including an annual poetry festival in East London, which attracts more that 1,000 participants and poets from around the world, including special guests invited from Bangladesh and West Bengal in India.  Since 2012 Shanghati has been delivering a number of unique externally funded community cohesion projects called Vision for Tolerance, Combating Prejudice and Community Literature Festival, the latter involve training on poetry, drawing and short story writing and running a competition.

কবিতা উৎসব ২০১৪

 সংহতি আজ ২৫ বছরের যুবা। আজ থেকে ২৫ বছর আগে তৃতীয়বাংলায় কিছু তরুণ কবি ও সাহিত্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় সংহতি সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে সংহতি তার আদর্শ এবং কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে একটি নিরেট সাহিত্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের সব ক'টি ক্ষেত্রেই সংহতি সমান অবদান রেখে আসছে। সংহতি শুরুতে যুক্তরাজ্য থেকে সর্বপ্রথম মাসিক সাহিত্যের কাগজ প্রকাশনার মধ্যদিয়ে তার যাত্রা শুরু করে। তারপর ধাপে ধাপে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোজন করছে ভিন্ন মাত্রা। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম কবিতা উৎসব ও বহির্বিশ্বের বাংলাভাষার কবি সাহিত্যিকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে সাহিত্য পুরুষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংহতি কবিতা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করছেন কবি ও সাহিত্যিকরা। 
  কবিতা উৎসব ২০১৪ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ অক্টোবর, স্থান: পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টার। অনুষ্ঠান শুরু হবে স্থানীয় শহীদ মিনার, আলতাব আলী পার্ক থেকে র‍্যালীর মাধ্যমে দুপুর ১২ টায়। মুল ষ্টেজ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে দুপুর ২ টায়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসছেন কবি হেলাল হাফিজ ও আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা, সাথে আসছেন কবি ফজলুল হক। তাছাড়াও বিলেতের এবং ইউরোপের অনেক কবি, সাহিত্যিকরা উপস্থিত থাকবেন। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন shanghati@yahoo.co.uk



বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবিসাহিত্যিকদের সাথে সংহতি'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

সংহতি সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবি ,সাহিত্যিক, সাংবাদিক ,সংগঠক,সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে সংগঠনের সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে বিলেতের উল্লেখযোগ্য কবি,সাহিত্যিক, সংস্কৃতকর্মী ,সংগঠক উপস্থিত থেকে কবিতা উৎসবকে সফল করতে তাদের নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।
সংহতির সাধারণ সম্পাদক কবি সামসুল হক এহিয়ার স্বাগত বক্তব্যে  অনুষ্টিতব্য কবিতা উৎসবের সম্ভাব্য কর্মকান্ডের বিবরণ দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের মুল্যবান
মতামত প্রদানের আহবান জানান। সংহতির দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোকপাত করেন সংগঠনের উপদেষ্টা নাট্যকার আবু তাহের ও  সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল এবং ট্রেজারার  কবি তুহীন চৌধুরী। মতবিনিময় সভায়- কবিতা উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে  উপস্থিত সকলে তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো হচ্ছে- স্বরচিত কবিতা পাঠ অংশে অনুষ্টানের  সার্বিক মান ও সময়কে বিবেচনায় রাখা, বিলেতের কবিদের কবিতা আবৃত্তি প্রসঙ্গ,বিলেতের বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্য নির্ভর মৌলিক  সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা, বই মেলা, সংগঠকদের মৌলিক পরিবেশনা,আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনা ও পরিবেশনা প্রসঙ্গ এবং সংহতির স্মারক প্রকাশনা ইত্যাদি। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল,কবি সাংবাদিক আহমদ ময়েজ,কবি মজিবুল হক মনি,সাংবাদিক আব্দুল
কাদির মুরাদ,কবি আবু মকসুদ, কবি সাইফুদ্দিন আহমদ বাবর,কবি নজরুল ইসলাম,কবি গোলাম কিবরিয়া,কবি সৈয়দ রুম্মান,কবি এম মোশাহিদ খান, কবি সাগর রহমান,কবি উদয় শংকর দুর্জয়,কবি আরাফাত তানিম, গীতিকার আহমেদ হোসেন বাবলু,কবি জামিল সুলতান,উপস্থাপক সামসুল জাকি স্বপন, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি শাহ আলম,সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দা নাজমিন,সুফিয়া জামিন নুরুজ, জাকির হোসেন, কবি মোহাম্মদ মুহীত,লেখক আশিষ মিত্রপ্রমুখ।

প্রানবন্ত অনুষ্টানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি।  উল্লেখ্য সংহতি সাহিত্য পরিষদ  ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিলেতে কবিতা উৎসব করে আসছে। আগামী ১৯ অক্টোবর রবিবার দিনব্যাপী  বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ পূর্ব লন্ডনের ব্রার্ডি আর্টস সেন্টারে নান্দনিক ও বিশাল কলোবরে অনুষ্টিত হবে। দুই পর্বের অনুষ্টানের শুভ উদ্বোধন এবং উৎসব এর প্রথম পর্ব শুরু হবে আলতাব আলী পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মাধ্যমে। অনুষ্টানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে থাকবেন- বাংলা সাহিত্যের
অন্যতম কবি হেলাল হাফিজ এবং বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা। এছাড়ারও আশির দশকের কবি ফজলুল হক ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাভাষি কবি সাহিত্যিক ও কবিতাপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংহতির পক্ষ থেকে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বরাবরের মতো সংহতি এবারও সংহতি কবি পদক,সাহিত্য পদক, বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করবে।অনুষ্টান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভির সাথে ০৭৯০৪০৭১০৯১ নাম্বারে ও shanghati@yahoo.co.uk যোগাযোগ করতে  সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।


A memorable event of Poetry Festival 2012

This was last Shanghati Poetry Festival 2012 with Poet Nirmolendu Goon, Poet Masud Khan, Poet Maruf Raihan & Poet Obayed Akash from Bangladesh. This year it will be celebrated with Poet Helal Hafiz (chief guest), Recitat Shimul Mustapha & Poet Fazlul Haque on 19th October 2014 at Brady Arts Centre, London,Uk. We would appreciate your presence at this Festival.



সংহতি সাহিত্য পুরুষ্কার ২০১১ গ্রহণ করছেন কবি শামীম আজাদ


Poety Festival 2012

সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ উৎসর্গিত করা হয়েছে বরেণ্য কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে

দিতে পারো একশ’ ফানুস এনে
আজন্ম সলজ্জ সাধ

একদিন আকাশে কিছু ফানুস ওড়াই -  হুমায়ুন আহমেদ


Poetry Festival 2012

1 | 2 | 3 | 4 | 5 >>

ধ্যানজ্ঞ প্রার্থনাসভা

মিলটন রহমান

কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল বলতে পারবেন এই লেখাটি কোথাও ছাপা হয়েছিলো কিনা। সংহতি সাহিত্য পরিষদের গত বারের কবিতা উৎসবের আগে লেখা। আজ হঠাৎ চোখে পড়লো। এখন যদিও এই লেখার কিছু বিষয়ে আমি নিজেও একমত নই।তারপরও আমার কয়েক বছর আগের চিন্তা শেয়ার করলান।

কবিতার মত মৌল শিল্প নিয়ে কাজ করবার জন্য একটি নন্দনতাত্বিক ভূমির দরকার হয়। যেখানে প্রাকৃতিক সুরম্য সাঁকো তৈরী থাকবে । থাকবে ফুল ও পাখির পরাগায়ন রহস্যের মত মোহবিস্তারি ধ্যান। সেখানে গ্রীসের পৌরাণিক নারী থাকাও বাঞ্চনীয়। পোক্ত আসন থাকতে পারে ফ্রয়েডীয় রতিবিশ্ব কিংবা এলিয়টীয় রোমান্টিকতার। এসবের মধ্যে ঠিক ফাঁক গলে বসে থাকা শুন্যতা, হাঁহাঁকার কিংবা নি:সঙ্গতাও থাকা চাই। কেননা ধ্যানের অধীক আলো-অন্ধকার আঁকড়ে না থাকলে কবিতা পাতাবাহার হয় না। বিলেতে বাংলা কবিতা সাহিত্যের এমন একটি ভ’মি আছে কি নেই সেই প্রশ্ন অবান্তর। এইটুকু বলা যায় যারা এখানে কবিতাকর্ম করেন প্রত্যেকের একটি স্বর্ণরেখা আছে। ওই রেখাই কবিকে পথ দেখায়। মাটি ছেড়ে যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসে বাংলাসাহিত্য চর্চা করছেন তারা জানেন বিলেতে একটি নন্দনভূমি আছে। বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভ’মিতে থাকলেও তারা মূলধারার সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ইদানিংকালে অনেকেই দেশে-বিলেতে-দেশে বসেই সাহিত্যকর্ম করছেন। সম্ভবত মূলের সাথে অবিচ্ছেধ্য সম্পর্কের কারণেই এখানে দেশের মতই ব্যস্ত সময় কাটে কবি-সাহিত্যিকদের। প্রায় বছরজুড়ে কবিতা কিংবা সাহিত্য নির্ভর আয়োজনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। আমি বিলেতে থিতু হয়েছি ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে। যেদিন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো। সময়টা বেশ কদর্যই ছিলো। তবে আমার পরবর্তী সময় তেমন ঘোলাটে হয়নি। সম্ভবত ২০০৭ কি ২০০৮ সালেই প্রথম আমি সংহতি সাহিত্য পরিষদের কবিতা উৎসবে যোগ দেয়ার সুযোগ পাই। ক্যুইনমেরি কলেজে সেবার কবিতা পাঠ করেছিলাম। সংহতির যাত্রার মাঝামাঝি সময়ে আমি সামান্য সহযাত্রী হতে পেরে প্রীত হয়েছিলাম। কারণ সেদিন সংহতির আয়োজন দেখে আমি ভুলে গিয়েছিলাম দেশে ফেলে আসা সব আয়োজনের কথা। কবিতা নিয়ে দেশের বাইরে পূর্ণঙ্গ অনুষ্ঠান আয়োজন, মাটিছাড়া আমাকে নতুন প্রনোদনায় উজ্জিবিত করেছিলো। কবি ফারুক আহমদ রনি, নাট্যকার আবু তাহের, কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলসহ অনেকের সাথে আমার পরিচয় সংহতি সাহিত্য পরিষদের সুবাধে। দেখেছি একদল উদ্দমী কবিতাকর্মী নিরন্তর কাজ করেছেন প্রতিবছর কবিতা উৎসব আয়োজনে। কবিতা উৎসবে যোগ দিতে একে একে এসেছেন কবি আসাদ চৌধুরী, কবি বেলাল আহমেদ, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, কবি মহাদেব সাহা। এবার আসছেন কবি নির্মলেন্দু গুন, কবি মাসুদ খান, কবি মারুফ রায়হান, তরুন কবি ওবায়েদ আকাশ। আরো কবিরা এ উৎসবে যোগ দেবেন বলে শুনতে পেয়েছি।সংহতি প্রতি বছর কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে আর এ উৎসবের উত্তরণ ঘটছে। এ উৎসব এখন মর্যাদার একটি বিস্তৃর্ণ মাঠের অধিকারী। যেখানে শোভা পাচ্ছে সব প্রিয় কবিদের নাম। যাদের সংহতি সাহিত্য পদক দিয়ে সম্মাণিত করেছে। সংহতি কবিতা উৎসব এখন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি সুবর্ণ পাতার নাম। বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন থেকে শুরু করে আজ অবধি কোন সাহিত্য সম্মেলন বা আন্দোলনের নাম নিতে গেলে সংহতি অবধারিতভাবে পর্যায়ক্রমে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দেশের বাইরে সম্ভবত এটিই এককভাবে কবিতা নিয়ে আয়োজিত বড় উৎসব। পত্র-পত্রিকায় প্রায় বছরজুড়ে আলোচনা থেকে বুঝা যায় এ উৎসবের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত হয়েছে। কানাডা থেকে কবি মাসুদ খান আসছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকেও আমাদের কবিরা আসবেন শুনেছি। অন্য দেশে অবস্থানরত কবিদের উৎসবমুখী করা সম্ভব হয়েছে এর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাপ্তবয়স্কতার কারণে। তাই বলতে এবং ভাবতে ভালো লাগে সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসব একদিন আরো বড় হবে। বাংলা কবিতার বিশ্ব প্রতিনিধত্ব করবে।সংগঠন-আড্ডা-কবিতা। এভাবে একটি যুথবদ্ধ খামার থেকে সৃষ্টি ও এর রসদ তৈরী হয়। বিলেতে সংহতি এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। ফলে এখানে তৈরী হয়েছে কিছু ধ্যানি মানুষ। যারা কেবল বাণী প্রার্থণা করেন। তৈরী করেন এক একটি সুরম্য উদ্যান। এটা এক ধরণের উম্মাদনা। যা না হলে বাক্য ও চিন্তারা অনিশ্চয়তার পাকে পড়ে। এবার উৎসবে এমনি তিন ধ্যানি আসছেন। ‘আমার কন্ঠস্বর‘ পাঠ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না কবি নির্মলেন্দু গুন কেমন ধ্যানি ছিলেন এবং কিভাবে কবি হয়ে উঠেছেন। গুন দা‘কে মনে হলে কবি আবুল হাসানের কথাও মনে পড়ে। আত্মার দুই বন্ধু ঢাকার রাস্তায় কিভাবে প্রেম ও আগ্নুৎপাতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কবি আবুল হাসান ঝিনুক কে নিরবে সয়ে মুক্তা ফলানোর কথা বলে চলে গেলেও গুন দা মুক্তা ফলাচ্ছেন এখনো। একইভাবে সংহতিও মুক্তার অধীকারী এখন। কবি মারুফ রায়হান এবং আমি হাতে ও গলায় ঝিনুকের মালা পড়ে কক্সবাজার সৈকতে জল ও জোৎ¯œার সাথে মিশে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছিলাম কবির উন্মাদনা। যা না হলে কবি হয়ে ওঠা অসম্ভব। তরুণ কবি ওবায়েদ আকাশ ধ্যানের চূঁড়ায় থাকেন বলে ‘শালুক‘ এর মত একটি ভারী ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন। এবার কবিতা উৎসবে এঁদের উপস্থিতি কবিতা উৎসবকে অনন্যতায় স্থাপতি করবে বলে মনে করি।

কবিতা প্রসংগ- মাসুদ আহমেদ

   কবিতার সংগে আমাদের পরিচয় ঘটে মাতৃক্রোড়ে। জন্মলগ্নের নাতিদীর্ঘ সময়ের পরে, তখনো বোধের উন্মেষ ঘটে নি, মাতা এবং সন্নিবেশিত মহিলাবৃন্দ আশ্রয় গ্রহন করেন কবিতাধর্মী বাক্যাবলীর। কবিতাশ্রয়ী এই আলাপন আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় পরবর্তীতে পূর্নাবয়ব কবিতার।
    শিশুর কর্নে ধ্বনিকেন্দ্রিক দ্যোতনা এবং শব্দের মিল একটি আকর্ষনের সূচনা করে। কবিতা হয় তার আগামী জীবনের যোগাযোগের মূলসূত্র। অজানিতভারে শিশুর মনে র্সৃষ্টি হয় কবিতার প্রতি সহনশীলতা, আগ্রহ এবং এবং এই প্রক্রিয়ায় সাড়া দেবার জন্য একাত্মবোধ। অবচেতন মনে কবিতার প্রতি এই আগ্রহবোধ সুষ্টি কেবলমাত্র আমাদের দেশেই নয়, পুথিবীর সর্বত্রই এই প্রক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটে। ঘুমপাড়ানি গান, ভিন্নদেশের লুলাবাই শ্রবনের পর্ব শেষ হলে শিশু যখন উচ্চতর বয়োসীমায় প্রবেশ করে, তখন বালক-বালিকাদের ছড়াপাঠ, ছোটদের কবিতা আবৃত্তি তাদের গুরুজন লালিত পরিমন্ডলে হয় মেধা-আশ্রিত উকর্ষতার পরিচায়ক। এসব উৎসাহ-উদ্দীপক উপস্থাপন বিদ্যাপীঠের অনুষ্ঠানে নয়, নিজগৃহে, আত্মীয়-পরিমন্ডলে গর্বিতা মাতা পুত্র-কন্যাকে উপহার দিতে বলেন সদ্য অনুশীলিত ছড়া বা কবিতাটি। প্রসংশিত তনয় বা তনয়ার মনের গহীনে কবিতার প্রতি আন্তরিক আগ্রহের সূচনা করেন পিতামাতা।
    বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে অন্যান্য কর্মকান্ডের আধিক্যে, আপাত:ভ্রম হতে পারে যে কবিতা বুঝি অপসৃয়মান। বুঝি বিদ্যার্জনের প্রভূত প্রচাপ কবিতাকে শিক্ষাগত পাঠ এবং অনুধাবনের মধ্যে সীমিত করে রাখে। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম, ভবিষ্যতের কবিবৃন্দ যারা বিদ্যাভাসের পাশাপাশি সংগোপনে কবিতার আরাধনা অব্যহত রাখে।
    পাশ্চাত্যের জনৈক প্রখ্যাত কবি কবিতার সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছিলেন.-"চড়বঃৎু রং ঃযব ংঁঢ়ৎবসব ভড়ৎস ড়ভ বসড়ঃরাব ষধহমঁধমব"। তদর্থে কবিতা হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম আবেগপ্রত'ত ভাষা। আবেগ বা তীব্রানুভূতির প্রাবল্য ঘটলে, যৌবনে দয়িতাকে নিয়ে নিয়ে কবিতা রচনা করেন নি বা কবিতার চতুর ব্যবহার করেন নি এমত প্রেমিকের সংখ্যা বিরল। বাংলাদেশের পরিবেশে মহাবিদ্যালয়ের সহপাঠিনী  অথবা প্রতিবেশিনীর কাছে প্রেরিত লিপিখানি উল্লিখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী কবিতা বলে গৃহীত হতে পারে। বিশেষ করে যখন আধুনিক বাংলা কবিতায় গদ্যকবিতার প্রবাহ চলমান।
    অন্য এক প্রখ্যাত কবি বলেছিলেন,- কবিতায় তিনটি গুন অবশ্যই বর্তমান থাকতে হবে। এই তিনটি গুন হচ্ছে,- "গবষড়ঢ়রধ, ঢ়যড়হড়ঢ়রধ, ষড়মড়ঢ়রধ,-ঃড় পযধহঃ, ঃড় ংরহম ধহফ ঃড় ংঢ়বধশ"। কবিতায় থাকতে হবে, মান্ত্রিক তন্ময়তা, সংগীতের মন্ময়তা এবং একটি বক্তব্য বা বাণী। এই সংজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে কবিতার অবদান আরো সুসংবদ্ধ এবং সুললিত হওয়া অপরিহার্য্য। বাংলাসাহিত্যের ইতিত্তৃত্তে প্রাচীন কবিতাবলীতে এই ধারনাবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ কবিই তাদের রচনাশৈলীতে এই ত্রয়ী গুনগত বৈশিষ্টের ব্যবহারে ক্রিয়াশীর ছিলেন। বলা যেতে পারে এই ধারা মোটামুটিভাবে বাংলা সাহিত্যের কবিতায়  বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ দশক পর্য্যন্ত বহমান ছিলো।
    চল্লিশ দশকের পরবর্তীকালে, বিশেষ করে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে কবিতায় এসেছে একটি মহা পরিবর্তন। পূর্বে ছন্দ ও মিলের নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে বক্তব্য বা বাণীকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হোতো। প্রাচীনকালে শ্লোক, দোহা ও মূলস্রোতের কবিতার মধ্যে কবির উপস্থাপনার মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন বাণী সতত সমুপস্থিত ছিলো। ভগবত প্রেম, প্রকৃতি বন্দনা, ধর্মীয় অনুশাসন বা সামাজিক ক্রিয়াকর্মের নৈতিক বিধিমালা পাঠক-পাঠিকার কাছে পৌঁছে দেবার দায়দায়িত্ব ছিলো যুগোপযোগী । পয়ার, মাত্রা ও ছন্দের মোহনীয় আচ্ছাদনে আবৃত কবিতা পাঠত-পাঠিকাতে প্রভাবিত করে বলে শাসক বা রাজ দরবারে নিয়োগপ্রাপ্ত কবির দায়িত্ব শুধুমাত্র নৃপতিকে আনন্দ দান নয়, তার অলিখিত দায়িত্ব ছিলো জনসাধারনকে প্রভাবিত করাও।
    প্রাক কল্লোল যুগে এবং বাংলা সাহিত্যের মহাধিপতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যে আছে বিশ্বপ্রেম, সৌন্দর্য্যবোধ, মানবপ্রেম ও সার্বজনীনতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে বাংলা কবিতায় এলো মহা আন্দোলন। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ কবিতায় দেবত্ব-বন্দনার বদলে এলো সাধারন মানবতার কথা। কবিতায় রচিত হোলো অত্যাচারিত নির্য্যাতিত মানুষের কথা, তদসংগে তাদের সংগ্রামের কথা। বলা যেতে পারে, এ ব্যাপারে বাংলা কবিদের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অবশ্য তার ব্যপ্তি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বহু পর পর্য্যন্ত বিস্তারিত হলেও, তার সূচনা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগেই। যে জনসাধারন একদা নতমুখে ললাটঙ্ক লিখন বলে ভাগ্যকে মেনে নিয়ে ঈশ্বর ও শাসকগোষ্ঠির সকল নির্দেশ গ্রহণ করতেন, বিদ্রোহী ক্িব কাজী নজরুল ইসলাম তাদের হাতে বিদ্রোহের বজ্রপতাকা তুলে দিলেন। যে কবিতা ছিলো কাব্যরসিকের একান্ত রসাস্বাদনের উপপাদ্য, তা সহসা এই নব্যধারার কবিদের বদৌলতে জনসাধারনের হাতে হয়ে উঠলো যে কোনো অন্যাযের বিরুদ্ধে উদ্যত হাতিয়ার। বিদ্রোহী কবির অগ্নিবীনার সুরে উজ্জীবিত অবিভক্ত ভারতবর্ষের আপমর জনসাধারন শিখলো জীবনের নব মূল্যায়ন। একার্থে বলা যেতে পারে কবিতা কেতাবী উচ্চাসন থেকে নেমে  এলো পদাতিক জনতার কাছে। কবিতায় এলো রাজনীতির ব্যবহার।
    কবিতায় ব্যবহারিক আটপৌরেতার কারনে তার মধ্যে কায়িক পরিবর্তনও ঘটলো প্রভূত। অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, পয়ার ও ছন্দের আগল ভংগ করে শুরু হোলো সাধারন মানুষের কথিত ভাষার অনুরূপ ভাষা ও বাক্য প্রয়োগে কবিতা রচনা। কবিতা হোলো আরো বলিষ্ঠ, গদ্যময় ও জনপন্থী।  এদের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রম, কবি মোহিতলাল মজুমদার। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কবির কবিতা গদ্যময় হলেও, বাক-প্রতিমা, চিত্রকল্প এবং উচ্চমার্গ শব্দের ব্যবহারবলী তার জন্য বাংলাসাহিত্যে একটি আলাদা স্থান নিশ্চিত করেছে।
    কল্লোল যুগ আমাদেন বাংলা কবিতা প্রসংগে একটি বিস্ময়কর অধ্যায়। কল্লোল যুগের কবিবৃন্দ অনন্য জীবনবোধের দহনে নিয়ত জ্বলেছেন। আর সেই অগ্নিশুদ্ধ বোধেউচ্চারিত পঙক্তিমালায় সজ্জিত করেছেন কাব্যের মানসীকে। অনাদিকালের মানব-মানবীর প্রেমকথা যেমন নতুনতর বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞায় বিবৃত হযেছে তাদের কবিতায় আবার তেমনি বিংশ শতকের হতদরিদ্র মানুষের আশা-আকাঙ্খা এবং আশাভংগের নিদারুন যন্ত্রনার ইতিকথাও বিধৃত হয়েছে তাদের কাব্যে। চন্দ্রসুধা পানের পাশাপাশি ক্ষুধার্ত কবি চাঁদকে একটি পোড়া ঝলসানো রুটি হিসাবে উপস্থাপিত করতে মোটেও কুন্ঠিত নন। সুকান্ত ভট্টচার্য্যরে এই জীবন-দর্শনের সমান্তরালে জীবনান্দ দাশ রোমান্টিসিজমের নীবিড় আলিংগনে বরন করেছেন প্রকুতিকে। সূর্য্যসম রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতিকে প্রায় পাশ কাটিয়ে এইসব কবিরা বাংলা সাহিত্যে নিয়ে  এলেন কবিতার ভিন্নধারার ভিন্নমাত্রিক ঐশ্বর্য্য।
    কবিতা সার্বজনীন হলেও, কবিতাকে ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে সমুপস্থিত করার প্রচেষ্টা করা হযেছে। উনিশশো সাতচল্লিশ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর অবিভক্ত বংগদেশ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে,- উপনিবেশবাদী সামগ্রিক পাকিস্তান সৃষ্টির অনতিবিলম্বে বাংলাসাহিত্যকে ধর্মের আলখাল্লা পরানোর প্রয়াস ছিলো প্রকট। ধর্মীয় বৈষমকে বৃহৎ করে প্রদর্শন করা ও  ভিন্নতর আত্মপরিচয় উদ্ভাবনের জন্য অত্যাগ্রহী পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠির বদান্যতায় বাংলা কবিতায় ফররুখ আহমদ প্রমুখ কবিদের অভিযাত্রা শুরু হয়। কট্টর আপাতঃধর্মবাদী শাসকগোষ্ঠির অনুপ্রেরনায় ফররুখ আহমদের সমসাময়িক এবং অনুসারী বেশ কিছু কবির আবির্ভাব ঘটে। ফররুখ আহমেদের কবিতায় চয়িত বাকপ্রতিমার ব্যবহার, চিত্রকল্প ও ছন্দের সমাহার তার কবিতাকে রসোতীর্ন ও কালজয়ী করলেও তার ভাবধারায় অনুপ্রানিত অন্য কবিদের কবিতা অপকবিতার নামান্তর মাত্র।
    কবিতার নানাবিধ ভূমিকা আছে। কবিতার নন্দনতত্ত্ব ও চেতনাকে অন্যরূপে উপস্থাপিত করে কবিতার আবেদনকে কবিরা বহুসময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করেছেন। যেহেতু অনেকসময় এই ব্যবহার মহত্তর কারনের জন্য, এই প্রক্রিয়ার ব্যবহার শুভ, সফল এবং কালোপযোগী। উনিশশো আটচল্লিশ সালে নবসৃষ্ট পূর্বপাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার কার্জন হলে বাংলাভাষার অধিকারগত ব্যবহার ও প্রয়োগ সম্পর্কে জনৈক মোহাম্মদ আলী জিন্নার কটূক্তি অজাত বাংলাদেশীদের জন্য একটি নতুন জাতীয়তাবোধের সূচনা করে। এই জাতীয়তাবোধের প্রয়োজন ছিলো জনসংযোগের জন্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য বাহন। কবিতার চাইতে শ্রেয়তর বাহন আর কি হতে পারে?
    উনিশশো বাহান্ন সালের একুশে ফেব্র"য়ারীর শোনিতপাতে অভ্যুত্থান ঘটলো স্বাধীনতাকামী পূর্ববংগবাসীদের জাতীয় চেতনাবোধের অভিজ্ঞানের। বৈদুর্য্যরে মনি এই অভিজ্ঞানের আলোক সর্বস্তরে পৌঁছে দেবার জন্য পূর্ব বাংলার বাংলা সাহিত্যে ঘটলো কবিতার গন-বিপ্লব।
    একুশে ফেব্র"য়ারীকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গনমানসের জন্য উদ্দীপনামূলক যত কবিতা রচিত হয়েছে, দেশ বা জাতিগত গনসংগ্রামের জন্য পৃথিবীর অন্য কোথাও রচিত হয়েছে বলে জানা নেই। উপস্থিত গনচেতনাকে সংঘবদ্ধ করার জন্য, আন্দোলনের জন্য সমগ্র বাংগালী সত্ত্বাকে একত্রীভূত করার জন্য জাতীয়তাবোধের নতুন আলোকে উদ্ভাসিত বাংলাদেশের কবিরা সৃষ্টি করেছেন অনন্য কবিতাসমূহ।
    এই কাব্যকাল, ঈষৎ দ্বিধার সংগে মন্তব্য করা যেতে পারে, বাংলাদেশের কবিদের একাগ্র্রমন্যতা প্রেম-ভালোবাসা, বিশ্বপ্রেম, নৈসর্গিক দুশ্যাবলী, সার্বজনীনতা ইত্যাদি,- কবিতার প্রচরিত বিচরন ক্ষেত্র থেকে ব্যবধানের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের বাংলা কবিতার এই কালটি ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের কাব্যকাল। শক্তিশালী উদ্দীপ্ত কবিদের লেখনীতে রচিত হয়েছে ভাষা ও স্বাধীনতা-কেন্দ্রিক অমর কবিতাসমূহ। কিন্তু একমুখী এই কাব্যরচনার ধারার গড্ডালিকাপ্রবাহে তাড়িত কিছু লালিত্যবিহীন শ্লোগানজাত অধোকবি ও অধোকবিতার সৃৃষ্টি করে।
    এই প্রসংগে আর একটি ব্যাপার গভীর দুঃখের সংগে অনুধাবন করা হয়েছৈ। একুশে ফেব্র"য়ারী ও মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক যেসব মহার্ঘ অনুপম কবিতাবলী রচিত হয়েছে, সেগুলি পুথিবীর অন্য প্রধান ভাষাগুলিতে অনুদিত না হওয়ায়, বিশ্বসাহিত্যে এগুলি যথার্থ উচ্চ সম্মান লাভ করতে সক্ষম হয় নি। কেবলমাত্র কাব্যশৈলীর মানদন্ডেও কবিতাসমূহ আন্তর্জাতিক সাহিত্যে মূল্যায়িত হতে পারতো। এইসব কবিতাসমূহ পৃথিবীর যে কোনো দেশে স্বাধীনতাকামী , স্বাধীকারের প্রচেষ্টায় লিপ্ত মানবের উদ্দীপনার সঞ্জীবনী মস্ত্র হতে পারতো।
    পশ্চিম বংগের কবিরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের এই মহাঅন্দোলনের সংগে সম্যকভাবে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু তারা নীবিড়ভাবে এই সাহিত্য-বিপ্লবকে অবলোকন করেছেন। তারা আন্তরিকভাবে এবং সংর্স্কৃতি ও চেতনাগত সাহিত্য-বন্ধনের জন্য বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যের প্রতি সংবেদন ও সহানুভূতিশীল। পশ্চিম বংগের সমসাময়িক বাংলা কবিতায় এর প্রতিফলন বর্তমান।
    বলাবাহুল্য, পশ্চিম বংগের কবিতার ধারা ভিন্নতর। তাদের কবিতার ধারায় বিশ্ব-সাহিত্যের সংগে স¤পৃক্ততা বেশী। বিশ্বায়নের যুগে কবিতা তথা সাহিত্য হচ্ছে মনোসংযোগের একমাত্র বুদ্ধি-মাধ্যম। এই বুদ্ধি-মাধ্যম এবং এর ব্যবহারকারী সাহিত্য-জনপদ কোনো ভৌহলিক বা সামাজিক দুরত্বকে গ্রাহ্য করে না। পশ্চিম বাংলার বাংলা কবিতা রচয়িতাদের দিয়েছে বিশ্বসাহিত্যের মহাসম্মেলনে অন্যদেশের কবিদের নৈকট্য। কিন্তু বাংলাদেশের কবিদের দিয়েছে স্বাতন্ত্রের উজ্জ্বল বৈশিষ্ট।    
    ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালের কালে, রাষ্ট্রীয় স্থিতিলাভের পরে বাংলাদেশের বাংলা কবিতায় পালে লেগেছে নতুন পবনের ছোঁয়া। বাংলা কবিতা নতুন রূপ পরিগ্রহ করছে। আত্মপ্রত্যয়ী কবিরা কবিতা নিয়ে, এর আংগিক, বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে অধুনা পরীক্ষা-নীরিক্ষায় লিপ্ত। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামী কবিরা সাফল্য অর্জনের পর আবার নববেশে কাব্যমানসীর দুয়ারে নবসম্ভারে উপনীত।
    তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলির জনসাধারন ও বুদ্ধিমত্তা নীতিগতবাবে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী। পশ্চিমা শক্তিজোটের বহু বৎসরের প্রতক্ষ্য এবং পরোক্ষ শোষন এই দেশসমূহের কবিদের অবচেতন সত্ত্বায় সুষ্টি করেছে প্রতিবাদের পরিভাষা। এই পরিভাসা রূপান্তরিত হয়েছে তাদের রচনায়। পূর্বসূরী নাজিম হিকমত, সুকান্ত ভট্টচার্য্য, ইয়েভতুশেংকো, ফেদরিকো গথিয়া লোরকা ইত্যাদির ভাবধারার অনুসারী, সত্তুর আশির দশকে বাংলাদেশের বাংলা কবিতায় আগমন ঘটেছে একঝাঁক বুদ্ধিদীপ্ত অতীব প্রাণবন্ত কবির। তাদের কবিতা শ্লোগান নয়, কিন্তু বক্তব্য এমনই সাবলীলতায় উচ্চারিত যে তা অবশ্যই অনুপ্রনিত পাঠক-পাঠিকার মরমে পৌঁছে। তাদের কবিতা মন্ময়তা আর তন্ময়তার আধারে হয়েছে আরো কাব্যাশ্রয়ী। গদ্য বর্তমানে কবিতার মূল বাহন হলেও, ছন্দ ও মিলের ব্যাপারে কোনো দায়বদ্ধতা না থাকলেও কাব্য রসিকরা পরমোৎসাহে অনুধাবন করছেন, বাংলা কবিতায় একটা বিবর্তন চলছে। এখন অনেকে আবার স্বছন্দে স-ছন্দ সমিল কবিতা রচণা করছেন। মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, পয়ার এবং আন্তিক মিলের পূর্ণবাসন ঘটছে ঠিকই, কিন্তু লক্ষনীয় যে বাক-প্রতিমা, উপম্াবলী, চিত্রকল্প, বাক্যশৈলী অত্যাধুনিক ও অতি সা¤প্রতিক। যারা গদ্য কবিতা লিখছেন, তাদের রচনায় মিলের অনুপস্তিতি ব্যতিরেকে কবিতার অন্যান্র গুনাবলী বিদ্রমান ও সমুজ্জ্বল।
    পৃথিবী এখন একটি বৃহৎ গ্রাম ছাড়া আর কিছু নয়। পৃথিবীর যেখানে অক্ষরেখা মিশেছে দ্রাঘিমার সাথে, তা সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন, সেখানে সন্দর্শন পাওয়া যাবে একজন বাংলাদেশীর বা বাংগালীর। জীবনের তাড়নায়, জীবিকার অšে¦ষনে বাংলাদেশের মানুষ আজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। আমেরিকার প্রত্যন্ত শহরে, সৌদি আরব, দুবাইয়ের কলকারখানায়. কানাডা, যুক্তরাজ্যের অলিতে গলিতে বাংলাদেশীদের অধিবাস। প্রবাসে বসতি স্থাপনের সাথে সাথে তারা সংগে বহন করে নিয়ে এসেছেন তাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। এনেছেন তাদের অন্তরংগ সম্পদ, বাংলা কবিতা। বাংলাদেশীর ধমনীতে বহমান কবিতা। কবিতার সংগে তার যে পরিচয় মাতৃক্রোড়ে। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-সুরমার উচ্ছ্বলিত জলরাশি, সোনালী ধানের ক্ষেত, চট্টলার উতুংগু পর্বতমালা, বেন নেভিস, টেমস নদীর পারের প্রবাসী বাংরাদেশীদের মনে ঢেউ খেলিয়ে যায়। কর্মক্লান্ত জীবনের অবসরে প্রবাসী বাংলাদেশী আত্মমগ্ন আপন দেশের শিল্প-সাহিত্য চর্চায়। প্রবাসে আত্মসমাহিত কবি রচনা করছেন বাংলা কবিতা।                                
    বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশীদের অধিবাস বৃহত্তম। তার ফলে যুক্তরাজ্যে গঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী বাংলা সাহিত্য-গোষ্ঠি। বাংলাদেশের বাইরে বাংলা সাহিত্যের এই অবয়ব বাংলাদেশের সাহিত্য ও কবিতার অবয়ব থেকে ভিন্নতর। যুক্তরাজ্য কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য এর ব্যতিক্রম নয়।
    যুক্তরাজ্যের বাংলা কবিতার কতিপয় গুনগত লক্ষণ আছে। এইসব গুনগত ব্যতিক্রমী লক্ষণগুলির কারণ হচ্ছে ভিন্ন পারিপার্শ্বিকতা এবং প্রবাস-মানসিকতা। প্রবাসী কবি সাহিত্যিকবৃন্দ বাংলাদেশের মূল ধারার সাহিত্যের সংগে একাত্মবোধ করলেও, তারা দূর থেকে বাংলা কবিতা তথা বাংলা সাহিত্রের ক্রমপরিবর্তনকে আরো গভীরভাবে, বিশেক্ষষনের দুষ্টিক্ষেপে অবলোকন করতে পারেন। বাংলাদেশে আপাতঃ বাক-স্বাধীনতা থাকলেও দেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুশাসনের জন্য বহু রচনা প্রয়াস বিঘিœত বা নিষিদ্ধ প্রায়। যুক্তরাজ্যের কবিরা বাস করেন একটি গনতান্ত্রিক দেশে যেখানে বাক-স্বাধীনতা স্বাধীকারের মহিমায় সুপ্র্রতিষ্ঠিত। ফলে বাংলাদেশের কাব্য-সাহিত্যে যে রচনা অবদমিত ও নিষিদ্ধ-প্রায়, এ দেশের কবি সাগিত্যিকরা তা অনায়াসে ব্যক্ত করছেন। তাদের এই উচ্চকণ্ঠ রচনামালা, বলা যেতে পারে বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের নৈতিকভাবে মানসিক ও সাহসের পরিপোষক।
    সাহিত্য এবং সাহিত্য-আন্দোলন,- এ দু'টি  একেবারেই আলাদা জিনিষ। যুক্তরাজ্যে একটি দ্রুত, ধাবমান ও পরিবর্তনশীল সাহিত্য আন্দোলন শুরু হয়েছিলো আশির দশকে। সেই সময়ের বেশ কিছু ভারী তরুন কবি, যারা এখন প্রৌঢ় প্রায়, কবিতা রচনায় অভূতপূর্ব চমকের সৃষ্টি করেছিলেন। বিশ্বসাহিত্যের সংগে সম তালে কবিতার আংগিক, ছন্দ ও উপস্থাপনা নিয়ে রীতিমত পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছেন। প্রচন্ড জীবনবোধ, দেশপ্রেমের অমিয়ধারা এবং প্রবাসী জীবনযাত্রার মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি তাদের কবিতায় সংযোজন করেছিলো উচ্চতর মাত্রা। বিস্মযকর ব্যাপার এ্ই যে, এইসব কবির অনেকের জন্ম এবং লালন-পালন এইদেশ্।ে এতদসত্ত্বেও তাদের মননশীর সাহিত্যচেতনা বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্যকে আশ্রয় করে ধৃত হয়েছে।
    এই মন্তব্য একটি ভ্রম হতে পারে,- অধুনা যুক্তরাজ্যের সাহিত্য আন্দোলন স্তিমিত। বলাবাহুল্য, আন্দোলন স্তিমিত, কিন্তু সাহিত্য বা কবিতা রচনা নয়। বহু কবি নীরবে একান্তে নিরলস কাব্য-সাধনা করে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে বাংলা কবি-সাহিত্যিকের কমতি না থাকলেও বাংলা প্রকাশনার অবস্থা অতীব শোচনীয়। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠিগত প্রচেষ্টায় কিছু কিছু প্রকাশনা ঘটছে বৈকি। কিন্তু বানিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার অভাবে যুক্তরাজ্যের কবিদের অমূল্য রচনাসম্ভার যুক্তরাজ্যের বাংগালী পাঠক-পাঠিকার কাছে এবং বাংলাদেশের সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম নয়। ফলে, গভীর দুঃখের সংগে বলা যেতে পারে, বাংলা সাহিত্যের উচ্চমানের এইসব রচনা-সম্ভার থেকে কাব্যরসিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কি আশ্চর্য্য র্বাপার, প্রাপ্তিযোগের কোনো সম্ভাবনা নেই জেনেও নিবেদিত প্রাণ প্রবাসী কবি-সাহিত্যিরা একাগ্রমন্য সাহিত্য সাধনায় নিয়োজিত আছেন।
    যুক্তরাজ্যের বহু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর অনেক প্রধান ভাষাগুলির সাহিত্য-চর্চা স্তিমিত। সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী সাহিত্য সংগঠন ও সংযোজন প্রভূত। তাদের এই সাহিত্য সাধনা মহার্ঘ। বাংলাদেশের জাতীয়তাবোধের চেতনায় নিয়ত উদ্বুদ্ধ, ভাষা সংগ্রামের অধিকার অর্জনের প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত এই প্রজন্মের কবিরা, যাদের একুশে ফেব্র"য়ারীর সংগে কোনো প্রত্যক্ষ পরিচয় নেই, বাংলাদেশের সংগে কায়িক পরিচয় স্বাল্পিক অবসরের সীমাবদ্ধতায়, তারা কি অমিত জীবনবোধে সম্পৃক্ত হযে বলছেন বাংলাদেশের শ্যামল রঙ রমনীর কথা। বিলাতের অগোছালা কক্ষে বসে রচনা করছেন বাংলাদেশের চাপা পড়া মানুষের ইতিকথা। তাদের কবিতা চিত্রপটে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানব-মানবী অপরূপ বর্নচ্ছটায় সমুপস্থিত।
    কবিতা, যার সংগে আমাদের আঁতাত শুরু জন্মলগ্নে, দেশ ও সময়ের ব্যবধান, জীবন ও জীবিকার ক্রমবর্ধমান তাগিদ, সব কিছুকে উপেক্ষা করে, সে আমাদের মনের মাঝারে মরমে মরমিয়া হয়ে আমাদের সংগেই আছে।
    কবিতা যে আমাদের আমৃত্যু জন্মসহচরী। 





সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২, লন্ডন অনুষ্ঠিত হবে- রোববার ২ সেপ্টেম্বর

বহির্বিশ্বে বাংলা সাহিত্যের জন্য নিরেট কাজ করছে এরকম সংগঠনগুলোর মধ্যে তৃতীয়বাংলার (যুক্তরাজ্যের) সাহিত্য সংগঠন সংহতি ইতিমধ্যে একটি বিশেষ জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয়বাংলায় বাংলা কবিতা উৎসবকে কেন্দ্র করে কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে যে আনন্দমুখর অবস্থান তৈরি হয় সেটা নিশ্চয়ই অন্যকোন উৎসবে দেখা যায় বলে মনে হয়না। সারা বছর ধরে কবিতা উৎসবের জন্য কবিদের অপেক্ষাই প্রমাণ করে সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসব একটি সার্থক প্রচেষ্টা। সংহতি গত ২৩ বছর থেকে একনিষ্ঠভাবে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির জন্য কাজ করে আসছে, যদিও সংহতি তার যাত্রা শুরু করেছিল সংহতি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সংহতির ক্ষেত্র বিস্তার করেছে নানা অঙ্গনে যেমন; সাহিত্য সম্মেলন, পাঠচক্র, বিশেষ বিশেষ দিনগুলোকে উপলক্ষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সাহিত্যের আড্ডা গল্প, কবিতাগ্রন্থ, তৃতীয়বাংলার লেখক পরিচিতি সহ নানা প্রকাশনা। গত চার বছর থেকে সংহতি যোগ করেছে সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব এবং কবি ও সাহিত্যিকদের বাংলা সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান।

সর্বপ্রথম সংহতি কবিতা উৎসব আয়োজিত হয় ২০০৮ সালে এবং তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বাংলা কবিতা উৎসব। উৎসব গুলোতে  বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যোগ দিতে আসেন কবি ও সাহিত্যিকরা। বিশেষ করে অতিথি হয়ে যারা এই পর্যন্ত অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হয়েছেন তাঁদের অনেকের মধ্যে কবি বেলাল চৌধুরী, কবি রফিক আজাদ, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি মহাদেব সাহা, কবি কেতকী কুশারী ডাইসন, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, কবি ও ছড়াকার সৈয়দ আল ফারুক, কবি নাজমুন নেছা পিয়ারী, কবি ও সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি, কবি মুহিত চৌধুরী, কবি আমিরুল আর্হাম সহ অনেকেই। এবারে সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকবেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মারুফ রায়হান, কবি ও ছড়াকার সৈয়দ আল ফারুক, কবি ওবায়েদ আকাশ। কানাডা থেকে আসবেন কবি মাসুদ খান ও কথাশিল্পী সাদ কামালী। জার্মান থেকে যোগ দেবেন কবি নাজমুন নেছা পিয়ারী এবং সর্বোপরি বরাবরের মত এবারেও উপস্থিত থাকছেন সংহতির প্রধান উপদেষ্টা আবদুল গাফফার চৌধুরী। তাছাড়াও ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে উপস্থিত থাকবেন খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিকরা। তৃতীয়বাংলায় অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী কবিতা উৎসবের আয়োজন যেন এক অনবদ্য উদ্যোগ।

সংহতি প্রতি বছর তৃতীয়বাংলার একজন কবিকে সম্মান জানানো ছাড়াও আরো বেশ কিছু বিষয়ে কবি সাহিত্যিকদের সম্মাননা জানিয়ে আসছে; তারমধ্যে সাহিত্য পদক, মরনোত্তর পদক, আজীবন সম্মাননা পদক সহ গুণীজন সম্মাননা।

এই পর্যন্ত যারা বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানিত হয়েছেন তাঁদের অনেকের মধ্যে সংহতি সাহিত্য পদক ২০০৮, কবিতার জন্য- কবি আতাউর রহমান মিলাদ, আজীবন সম্মাননা পদক- কবি ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, মরনোত্তর সম্মাননা পদক- প্রয়াত কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার। সংহতি সাহিত্য পদক ২০০৯, কবিতার জন্য- কবি মুজিব ইরম, আজন্ম সম্মাননা পদক- সাহিত্যিক আব্দুল মতিন, মরনোত্তর সম্মাননা পদক- প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। সংহতি সাহিত্য পদক ২০১১, কবিতার জন্য- কবি শামিম আজাদ, আজীবন সম্মাননা পদক কবি ও সাংবাদিক কাদের মাহমুদ, মরনোত্তর সম্মাননা পদক- সাহিত্যিক ও প্রয়াত কথাশিল্পী হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।  এবারে সংহতি সাহিত্য পদক ২০১২-তে পাঁচটি বিষয়ে আটজন কবি ও সাহিত্যিকদের সম্মাননার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য সংহতির সম্মাননা পদক একটি অনবদ্য উদ্যোগ যাহা বহির্বিশ্বে অবস্থানরত কবি সাহিত্যিকদের জন্য একটি মাইল ফলক হিসাবে বিবেচিত।

২ সেপ্টম্বর, রোববার সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২, উপলক্ষে দিনব্যাপী নেয়া হয়েছে বিশেষ বিশেষ আয়োজন  তারমধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, আলোচনা, কবিদের কবিতাপাঠ, গীতিকাব্য, কবিতা আবৃতি, গীতিনাট্য, প্রয়াত বরেণ্য কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমদকে নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  সকাল ১১.৩০ টায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হবে রাত ১০টা পর্যন্ত।  সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ উৎসর্গীত করা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য কথাশিল্পী প্রয়াত হুমায়ুন আহমদের স্মরণে।

এই পর্যন্ত যারা এখনো অনুষ্ঠানে যোগদিতে নিবন্ধনপত্র পূরণ করেন নাই তাঁদের ২৮ তারিখের মধ্যে নিবন্ধন করে নিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।  নিবন্ধনপত্র এবং যে কোন অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ করতে সংহতি উৎসব কমিটি অথবা সংহতির ওয়েবসাইট  (www.shanghati.co.uk) এবং ইমেইল shanghati@yahoo.co.uk তে  যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেয়া যেতে পারে।


বাংলা কবিতা উৎসব ও সংহতি আয়োজিত মত বিনিময় সভা

সংহতি আয়োজিত ৪র্থ বাংলা কবিতা উৎসব উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কবি, লেখক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাংলা কবিতা উৎসব নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। বহির্বিশ্বে অর্থাৎ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম ২০০৮ সাল থেকে বাংলা কবিতা উৎসবের আয়োজন করে আসছে তৃতীয়বাংলার দীর্ঘদিনের পুরনো সাহিত্য সংগঠন সংহতি। সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে এবং গত ২৩ বছর থেকে সংহতি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির আন্দোলনে বরাবরই সরোব ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলা সাহিত্যের কবি, সাহিত্যিকরা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসেও তাদের মৌলিক কর্ম অব্যাহত রেখে চলেছেন। সমৃদ্ধ করছেন বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গন। তেমনি বিলেতের বা তৃতীয়বাংলার কবি সাহিত্যিকদের অবদান বলতে গেলে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু তাঁদের মূল্যায়নের জন্য সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে সংহতি। সংহতি কবিতা উৎসবের পাশাপাশি কবিতা ও বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে লেখক কবিদের মুল্যায়নের লক্ষে পুরুষ্কৃত করে আসছে কবি ও সাহিত্যিকদের।বাংলা কবিতা উৎসবকে সামনে রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন কবি সাহিত্যিকরা। সংহতি বরাবরই নবীন ও প্রবীণ কবিদের সমন্বয়ে যে সংযোগ ফ্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে তাহা বাংলা সাহিত্যের সর্বোপরি ঈর্ষীয় অবস্থান বলেই বিবেচিত। এ পর্যন্ত সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসবে বাংলাদেশ থেকে যে সকল নবীন ও প্রবীণ কবি উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন তাঁদের অনেকের মধ্যে কবি বেলাল চৌধুরী, কবি মুস্তাফিজ শফি, কবি রফিক আজাদ, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজি, কবি মহাদেব সাহা, কবি মুহিত চৌধুরী, তাছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা থেকে যোগ দিয়েছেন নাজমুন নেসা পিয়ারী, আমিরুল আরহাম সহ অসংখ্য কবি সাহিত্যিকরা।
তৃতীয়বাংলার জ্যৈষ্ঠ কবিদের মধ্যে বরাবরই উপস্থিত কবি, লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি কেতকী কুসারী ডাইসন, কবি মাসুদ আহমেদ, কবি কাদের মাহমুদ, কবি সালেহা চৌধুরী, কবি শামীম আজাদ সহ বিলেতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি সাহিত্যিক।
এবারে সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকবেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান বরেণ্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মারুফ রায়হান, কবি ওবায়েদ আকাশ। কানাডা থেকে যোগ দেবেন সব্যসাচী কবি মাসুদ খান সহ অনেকে।
গতকালের মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরেণ্যে ব্যক্তিত্ব কবি, লেখক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি শামীম আজাদ, কবি গোলাম কবির, কবি ফয়জুর রহমান, লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল, সাংবাদিক সাহাব উদ্দিন বেলাল, কবি ও সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, লেখক ও সাংবাদিক কবি মজিবুল হক মনি, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি মাশুক ইবনে আনিস, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, কবি আহমদ ময়েয, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ, কবি অলি রহমান, কবি কাজল রশিদ, বাংলাদেশ থেকে আগত কবি ও সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি, কবি লোকমান আহমদ, কবি শাহনাজ সুলতানা, কবি সৈয়দ রুম্মান, লেখক ও সাংস্কৃতিককর্মি নোমান আহমদ, এবং সংহতি পরিবারের সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে সংহতির প্রতিষ্ঠাতা

সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার আবু তাহের, প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কবি আব্দুল মুনিম ক্যারল জাহেদী, সৈয়দা তুহিন, সৈয়দা নাজমিন, আইটি বিষয়ক সম্পাদক নোমান চৌধুরী এবং বর্তমান সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল হক এহিয়া, কোষাধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন, সহ কোষাধ্যক্ষ নজরুল আলম, কবি মঞ্জুলিকা জামালী, কবি শামীম শাহান,  প্রচার সম্পাদক লেখক ও কথাশিল্পী সাঈম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিনা আলী, কবি শাহ আলম, কবি রেজুয়ান মারুফ, সহ সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল জাকি স্বপন, শিক্ষা সম্পাদক আবৃতিকার মুনিরা পারভিন। তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিভি সংবাদ পাঠক ও আবৃতিকার সালাউদ্দিন শাহীন, সাংবাদিক আব্দুল কাদির মুরাদ এবং সুরমা, জ

নমত, পত্রিকা, বাংলা টাইস্,নতুনদিন, বাংলা পোষ্ট, ইউরো বাংলা, বাংলা মিরর, বেতার বাংলা, চ্যানেল এস, বাংলা টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল আই সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আগামী কবিতা উৎসবকে সার্থক ও গতিশীল করে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগীতার আহবান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল ইফতারির আয়োজন ও মুক্ত আড্ড।                                                     

Poetry Festival 2008- Participant Poets

Shanghati Literary Award 2008

Poet Ataur Rahman Milad receiving Shanghati Literary Award 2008 by Kobi Rafik Azad and Kobi Belal Choudhuri

Shanghati Life time Achievement Award for Late Poet Kiswar Ibne Dilwar

Award receiving Kobi Dilwar by Shanghati Members Helal Uddin & Shelim Uddin  

তৃতীয়বাংলা কবিতা উৎসব

  তৃতীয়বাংলা কবিতা উৎসব  মিলটনরহমান (প্রাসঙ্গিক কারণে অনেক দিন থেকে তৃতীয়বাংলার কবিতা উৎসব বিষয়ে লিখবো ভেবেছিলাম। লেখাটি আজকের(১৩/০৯/২০০৯) যুগান্তরে ছাপা হয়েছে। পাঠের গুরুত্বের কথা চিন্তা করে নীচে লিংক ও দেয়া...

Registration in Progress

Please find the reigistration form and send it to us by 15th October 2009 for participate and attend the festival


Registration Form for Bengali Poetry Festival 2012

16/06/2012 20:13
Please send your registration form by 1st August 2012 for taking part or engaged yourselfe for this event shanghati@yahoo.co.uk Registration Form

Registration form for Bengali Poetry Festival 2009, London

24/08/2009 00:57
  Registration form for Bengali Poetry Festival 2009, London  Download word doc   registration.doc (81,5 kB)

তৃতীয় বাংলার লেখক পরিচিতি

31/08/2009 00:35
তৃতীয় বাংলার লেখক পরিচিতি  

বিলাতে বাংলা কবিতা উৎসব ২০০৮ প্রসঙ্গে - আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

01/09/2009 12:34
বিলাতে বাংলা কবিতা উৎসব ২০০৮ প্রসঙ্গে - আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী   বিলাতে বাংলা কবিতা উৎসব, লন্ডন’ শীর্ষক কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুইন্সমেরী ইউনির্ভাসিটিতে কলেজে চব্বিশে আগষ্ট তারিখে। এর আগে বহু বছর ধরে সাহিত্য সম্মেলন হয়েছে। নাটোৎসব হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত ও শামসুর রাহমানকে নিয়ে...
Items: 1 - 4 of 4